বিআরটিএর নির্ধারিত নিয়ম ও কাগজপত্র অনুসরণ করলে যে কেউ সহজেই তার গাড়ি বা মোটরযানের রং পরিবর্তন করতে পারবেন। অনুমোদন ছাড়া রং পরিবর্তন না করে আইন মেনে চলাই নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত সমাধান।
নিবন্ধিত মোটরযানের রং পরিবর্তন করা একটি আইনগত ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে কোনো গাড়ির রং পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) এর পূর্বানুমোদন নিতে হয়। অনুমোদন ছাড়া রং পরিবর্তন করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয় এবং জরিমানার ঝুঁকি থাকে।
এই প্রতিবেদনে বিআরটিএ অনুমোদনে গাড়ির রং পরিবর্তনের সম্পূর্ণ নিয়ম, ধাপসমূহ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
কেন বিআরটিএ অনুমোদন নিয়ে গাড়ির রং পরিবর্তন করতে হয়?
প্রতিটি মোটরযানের রং তার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (RC/DRC)–এ উল্লেখ থাকে। রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের পরিচয় নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জালিয়াতি প্রতিরোধের স্বার্থে গাড়ির প্রকৃত রং ও রেজিস্ট্রেশনে উল্লেখিত রং একই হওয়া বাধ্যতামূলক।
বিআরটিএ অনুমোদনে গাড়ির রং পরিবর্তনের প্রক্রিয়া
গাড়ির রং পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয় -
- ধাপ ১ নির্ধারিত ফি জমা: প্রথমে বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত রং পরিবর্তন ফি ব্যাংকে জমা দিতে হবে এবং এর রশিদ সংগ্রহ করতে হবে।
- ধাপ ২ আবেদন দাখিল: যে সার্কেলে গাড়িটি নিবন্ধিত, সেই বিআরটিএ সার্কেল অফিসে রং পরিবর্তনের অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদনটি সাদা কাগজে উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা ও প্রমাণসহ জমা দিতে হয়। এই আবেদন গ্রহণ করেন মোটরযানের মালিকানা বদলি শাখার সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) অথবা উক্ত শাখা না থাকলে সংশ্লিষ্ট সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ
- ধাপ ৩ গাড়ি পরিদর্শন: আবেদন যাচাই করে সঠিক মনে হলে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোটরযান পরিদর্শককে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেন। নির্ধারিত তারিখে গাড়িটি হাজির করতে হয়।
- ধাপ ৪ অনুমোদন ও প্রাপ্তিস্বীকার পত্র: পরিদর্শন প্রতিবেদন সন্তোষজনক হলে কর্তৃপক্ষ রং পরিবর্তনের অনুমোদন প্রদান করেন এবং একটি প্রাপ্তিস্বীকার পত্র দেন। এটি অস্থায়ী নিবন্ধন সনদ হিসেবে কাজ করে। এই প্রাপ্তিস্বীকার পত্রে নতুন ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (DRC) প্রদানের সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ থাকে।
- ধাপ ৫ নতুন DRC সংগ্রহ: ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট প্রস্তুত হলে গ্রাহকের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয়। এরপর নির্ধারিত সময় ও স্থানে গিয়ে DRC সংগ্রহ করা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ নোট: রং পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গাড়ির ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ থাকতে হবে।
গাড়ির রং পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
গাড়ির রং পরিবর্তনের আবেদন করতে নিচের দলিলাদি প্রয়োজন -
- মালিকের স্বাক্ষরযুক্ত আবেদনপত্র ১ কপি
- মূল নিবন্ধন সনদ (কাগজের RC হলে হাউজ কপি সহ)
- রং পরিবর্তন ফি জমার রশিদের বিআরটিএ কপি
- হালনাগাদ ফিটনেস সনদের ফটোকপি ১ কপি
- হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেনের ফটোকপি ১ কপি
- যে গ্যারেজে গাড়ির রং পরিবর্তন করা হয়েছে সেই গ্যারেজের প্রত্যয়নপত্র/চিঠি
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এর ফটোকপি ১ কপি
- মালিকের পাসপোর্ট সাইজ ছবি ২ কপি
FAQ – সাধারণ প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: বিআরটিএ অনুমোদন ছাড়া কি গাড়ির রং পরিবর্তন করা যাবে?
উত্তর: না। বিআরটিএর পূর্বানুমোদন ছাড়া গাড়ির রং পরিবর্তন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং জরিমানার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রশ্ন: কোন বিআরটিএ অফিসে গাড়ির রং পরিবর্তনের আবেদন করতে হয়?
উত্তর: যে বিআরটিএ সার্কেল অফিসে গাড়িটি নিবন্ধিত, সেই সার্কেল অফিসেই রং পরিবর্তনের আবেদন করতে হয়।
প্রশ্ন: গাড়ির রং পরিবর্তনের আগে না পরে বিআরটিএতে আবেদন করতে হবে?
উত্তর: প্রথমে বিআরটিএতে আবেদন ও অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পরই গাড়ির রং পরিবর্তন করে পরিদর্শনের জন্য হাজির করতে হবে।
প্রশ্ন: গাড়ির রং পরিবর্তনের জন্য ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন কি হালনাগাদ থাকতে হবে?
উত্তর: হ্যাঁ। রং পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অবশ্যই গাড়ির ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ থাকতে হবে।
প্রশ্ন: গাড়ির রং পরিবর্তন করতে কত সময় লাগে?
উত্তর: সাধারণত পরিদর্শন ও অনুমোদন শেষে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (DRC) প্রস্তুত হতে কয়েক কার্যদিবস সময় লাগে। নির্দিষ্ট সময় আবেদন ও সার্কেলভেদে ভিন্ন হতে পারে।
প্রশ্ন: রং পরিবর্তনের পর কি নতুন রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়?
উত্তর: রং পরিবর্তনের পর কি নতুন রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়?
প্রশ্ন: গাড়ির রং পরিবর্তনের জন্য কি গ্যারেজের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন?
উত্তর: হ্যাঁ। যে গ্যারেজে গাড়ির রং পরিবর্তন করা হয়েছে, সেই গ্যারেজের চিঠি বা প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
