Post Image

গ্রুপ রাইডিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিয়মসমূহ

গ্রুপ রাইডিং বা দলবদ্ধ মোটরসাইকেল ভ্রমণ অনেক রোমাঞ্চকর হলেও এর মধ্যে থাকে কিছু ঝুঁকি। সঠিক নিয়ম না মানলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই গ্রুপ রাইডিংয়ের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম যেমন- যোগাযোগের মাধ্যম, সঠিক ফর্মেশন, লেন শৃঙ্খলা, নিরাপদ ওভারটেকিং, ব্লাইন্ড স্পট এড়ানো, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং হাতের সিগন্যাল ব্যবহার তুলে ধরা হয়েছে। যারা মোটরসাইকেলে গ্রুপ/দলবদ্ধ ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য এই নিয়মগুলো মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।


মোটরসাইকেল বা মোটর বাইক ছোট আকৃতির সাশ্রয়ী বাহন হওয়ায় ক্রমশ এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। শখ ও প্রয়োজনীয়তা উভয় দিক বিবেচনায় তরুণদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মোটরসাইকেল।বর্তমানে অনেকেই মোটরসাইকেল ব্যবহার করে লম্বা যাত্রা করে থাকে। ভ্রমণ পিপাসুরা তো দলবেঁধে বাইক নিয়ে ট্যুরে যাচ্ছে।

বন্ধুদের সাথে দলগতভাবে ভ্রমণ করা অত্যন্ত আনন্দদায়ক। কিন্তু এতে কিছুটা প্রতিযোগিতারও ঝাঁজ থাকে। কিন্তু গ্রুপ রাইডিং এর সময় নিরাপত্তার ব্যাপারে ছাড় দিলে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। তাই মারাত্মক দুর্ঘটনা হতে রক্ষা পেতে গ্রুপ রাইডিংয়ের সময় সঠিক নিয়ম বা কৌশল অনুসরণ করা উচিত।

কিন্তু সাধারণ রাইডাররা গ্রুপ রাইডিংয়ের কৌশল সম্পর্কে কতটুকু জানে? অনেক রাইডার রয়েছে যারা গ্রুপ রাইডিংয়ের সাধারণ নিয়ম সম্পর্কে অবগত নয়। তাই আজকে আমরা জানবো দলগত বা গ্রুপ রাইডিংয়ের নিয়ম সম্পর্কে।

দলবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল চালনায় করনীয়:

১. যোগাযোগের মাধ্যম নির্ধারণ

দলগত ভ্রমণ শুরুর আগেই সদস্যদের রাস্তায় কিভাবে যোগাযোগ করবে তা ঠিক করে নিতে হবে। একজন গ্রুপ লিডার বাছাই করতে হবে। দলের সবথেকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ রাইডার এই দায়িত্ব পালন করতে পারে। সাধারণত গ্রুপ লিডার বা দলনেতা সবার পিছনে থাকে (অনেকটা নেকড়ে দলের মত) এবং এমন একজন গ্রুপের শুরুতে থাকে যে গন্তব্যের যাত্রাপথ সম্পর্কে ভালো জানে/চেনে। মূলত এই দুইজনের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরী।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বর্তমানে জিপিএস, ওয়াকি টকি, মোবাইল ফোন সহ বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়ে থাকে।

২. চালনার ফর্মেশন

দলবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল চালানোর সময় পাশাপাশি থাকা যাবে না। এ সময় জিক জ্যাক ফর্মেশন এ বাইক চালানো সব থেকেই নিরাপদ পদ্ধতি। প্রয়োজনে এক সারিতেও চলা যাবে। তবে সর্বক্ষেত্রেই দুটি বাইকের মাঝে কমপক্ষে ০২ (দুই) সেকেন্ডের দূরত্ব থাকতে হবে।

৩. লেন মেইন্টিং

গ্রুপ রাইডিংয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই নির্দিষ্ট লেন মেনে চলতে হবে। তবে কোনো কারণে লেন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে প্রথমে শেষ বাইকার লেন পরিবর্তন করবে (চিত্র-১), এরপর প্রথম বাইকার লেন পরিবর্তন করবে (চিত্র-২), পরে মাঝের সবাই ক্রমানুসারে লেন পরিবর্তন করবে (চিত্র-৩)।

৪. ওভারটেকিং

গ্রুপ রাইডিংয়ে একসাথে ওভারটেকিং করা যাবে না। এতে নিজেদের মধ্যেই বিশৃঙ্খলা তৈরি সহ দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তাই ওভারটেকিংয়ের সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে একজন একজন করে ওভারটেকিং করতে হবে।

৫. ব্লাইন্ড স্পট

সব ধরনের যানবাহনেরই ব্লাইন্ড স্পট রয়েছে। তাই রাস্তায় চলার সময় সামনের গাড়ির পেছনের ব্রাইন্ড স্পটগুলোকে এড়িয়ে চলতে হবে। একই সাথে নিজ বাইকের ব্রাইন্ড স্পটগুলোও সতর্কতার সাথে খেয়াল রাখতে হবে।

৬. গতি নিয়ন্ত্রন এবং দৃশ্যমান থাকা

গ্রুপ রাইডিংয়ের সময় অবশ্যই গতিসীমা মেনে চলতে হবে।সকল বাইকের মাঝে সামঞ্জস্যপূর্ণ গতি বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। রাফ ড্রাইভিং করে গ্রুপ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবেনা। একজন থেকে অপরজন অবশ্যই দৃশ্যমান দূরত্বে থাকতে হবে। বিশেষ করে রাত্রিকালীন সময়ে দৃশ্যমান দূরত্বে থেকে রাইড করা প্রয়োজন।

৭. হাতের সিগন্যাল

দলগত ভ্রমণে হাতের সিগন্যাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । প্রত্যেক চালকেরই হাতের সিগন্যাল বুঝতে হবে। কারণ হাইওয়ে বা মহাসড়কে দলগত ভ্রমনের সময় রাইডাররা নিজেদের মধ্যে শব্দ কথা বলা সম্ভব হয় না। তাই গ্রুপের যেকোনো সদস্য সমস্যার সম্মুখীন হলে হ্যান্ড সিগনালের মাধ্যমে অপরজনকে অবহিত করতে হবে।

বাইকারদের হাতের সিগনাল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

উল্লেখ্য, দলগত বা গ্রুপ রাইটিংয়ের জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সহযোগিতামূলক মনোভাব থাকা। আর অবশ্যই যে কোন রাইডের আগে রাইডারের ব্যক্তিগত সুরক্ষা কিট নিশ্চিত করা জরুরী। 

FAQ – সাধারণ প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: গ্রুপ রাইডিংয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম কোনটি?
উত্তর: যোগাযোগের মাধ্যম নির্ধারণ এবং সঠিক ফর্মেশন বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি।

প্রশ্ন: গ্রুপ রাইডে কোন গতিতে চলা নিরাপদ?
উত্তর: সবার দক্ষতা অনুযায়ী মাঝারি গতি রাখা উচিত, যাতে সবাই সহজে কন্ট্রোল রাখতে পারে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে গ্রুপ রাইডিং কি আইনত অনুমোদিত?
উত্তর: হ্যাঁ, তবে ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং হেলমেটসহ সেফটি গিয়ার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

WhatsApp Chat
×