Post Image

সড়কের জরিমানা ও আদায় পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ গাইড

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী ট্রাফিক অপরাধের জন্য জরিমানা, দোষসূচক পয়েন্ট ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, যা সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে এসব জরিমানা আদায় করা হয় এবং নির্ধারিত ক্ষেত্রে অনলাইনে পরিশোধের সুবিধাও রয়েছে।


বাংলাদেশে সড়ক শৃঙ্খলা নিশ্চিত ও দুর্ঘটনা কমানোর লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের আলোকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এবং ট্রাফিক পুলিশ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক অপরাধের জন্য জরিমানা আরোপ ও আদায় করে থাকে। আইনটিতে জরিমানা, দোষসূচক পয়েন্ট কর্তন এবং গুরুতর ক্ষেত্রে কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক বিষয়

আইনের ৪৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রতিটি যানবাহনের জন্য নিচের বিষয়গুলো বাধ্যতামূলক -

  • বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স
  • হালনাগাদ ফিটনেস সার্টিফিকেট
  • বৈধ রেজিস্ট্রেশন
  • নিয়মিত ট্যাক্স টোকেন

এই শর্তগুলো পূরণ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সড়ক পরিবহন আইনে অপরাধ ও জরিমানার তালিকা

নিচে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী বহুল প্রচলিত অপরাধ ও সম্ভাব্য সাজা/জরিমানার সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো-

  • ট্রাফিক সংকেত অমান্য বা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো
    → সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো
    → সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা জরিমানা অথবা ৬ মাসের কারাদণ্ড
  • রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি চালানো
    → সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা জরিমানা অথবা ৬ মাসের কারাদণ্ড
  • ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল
    → সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা জরিমানা
  • হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো বা সহযাত্রীর হেলমেট না থাকা
    → সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা অথবা ৩ মাসের কারাদণ্ড
  • ভুয়া বা জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার
    → ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা ৬ মাস থেকে ২ বছর কারাদণ্ড
  • উল্টো পথে গাড়ি চালানো
    → সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা
  • সিটবেল্ট ব্যবহার না করা
    → সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা জরিমানা
  • গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা
    → সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা জরিমানা
  • অবৈধ পার্কিং
    → সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা জরিমানা

এছাড়াও অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বেশি যাত্রী বা পণ্য পরিবহন এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, যার জন্য কঠোর শাস্তি ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

জরিমানা আদায় পদ্ধতি

সড়ক পরিবহন আইনের জরিমানা আদায় করা হয় কয়েকটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে -

ট্রাফিক পুলিশ ও বিআরটিএ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জরিমানা আদায়
নির্ধারিত ক্ষেত্রে বিআরটিএ সার্কেল অফিসে জরিমানা পরিশোধ
বিআরটিএ সেবা (BRTA Service) মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইনে জরিমানা পরিশোধের সুযোগ

FAQ – সাধারণ প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন : সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ কবে থেকে কার্যকর হয়?
উত্তর: আইনটি ২০১৮ সালে পাস হয় এবং পরবর্তীতে বিধিমালা জারির মাধ্যমে কার্যকর হয়।
প্রশ্ন : ট্রাফিক পুলিশ কি সরাসরি জরিমানা আদায় করতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ, নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা যায়।
প্রশ্ন : ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে সবচেয়ে বেশি শাস্তি কী?
উত্তর: সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা জরিমানা অথবা ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
প্রশ্ন : অনলাইনে ট্রাফিক জরিমানা পরিশোধ করা যায় কি?
উত্তর: হ্যাঁ, বিআরটিএ সেবা (মোবাইল অ্যাপ) ব্যবহার করে অনলাইনে জরিমানা পরিশোধ করা যায়।
প্রশ্ন : নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালালে কী শাস্তি হয়?
উত্তর: এটি গুরুতর অপরাধ; জরিমানা ছাড়াও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

WhatsApp Chat
×